অফিসে নয় আবেগ | ক্যারিয়ার ম্যানেজমেন্ট | শামস্ বিশ্বাস

অফিসে নয় আবেগ | ক্যারিয়ার ম্যানেজমেন্ট | শামস্ বিশ্বাস : আবেগ বা ইমোশন আমাদের জীবনকে সর্বতোভাবে পরিচালনা করে চলেছে। সেভাবে দেখতে গেলে কর্মক্ষেত্রে আবেগের পরিধিও কোনও অংশে কম নয়। আবেগ বা ইমোশন কেবলমাত্র যে অপরিহার্য বা সুদূর ফলপ্রসূ তাই নয়, একে ব্যাল্যান্স করে চলতে পারলে জীবনের উৎকর্ষকেও ক্ষুরধার করা যায়।

অফিসে নয় আবেগ

অফিসে নয় আবেগ | ক্যারিয়ার ম্যানেজমেন্ট | শামস্ বিশ্বাস

মানুষের জীবনচক্রে ইমোশন দুই ধরনের হয়ে থাকে। পজিটিভ এবং নেগেটিভ। এই দুই ধরনের ইমোশনের তারতম্য ঘটিয়ে মানুষ তাঁদের ব্যবহার এবং দৃষ্টিভঙ্গিকে নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন। যার ফলস্বরূপ সামগ্রিকভাবে জীবনে উন্নতি হয়। তবে প্রতিটি মানুষ যেহেতু আলাদা, সেহেতু সেই সঙ্গে কার কাছ থেকে কতটা প্রত্যাশ করতে পারেন তা হিসাবে রাখতে হবে। এক্ষেত্রে একজনের ব্যক্তিত্বের ধরন, ইনটেলিজেন্ট কোশেন্ট (আই কিউ) বা ইমোশনাল কোশেন্ট (ই কিউ), পজিটিভ দৃষ্টিভঙ্গি, আয়ত্ত করার ক্ষমতা, সমস্যা সমাধানের এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দেখে ঠিক করা উচিত। না হলে, অচিরেই প্রত্যাশায় ধাক্কা লাগতে বাধ্য।

এবার একটু দেখে নেওয়া যাক নেগেটিভ ইমোশন বলতে আমরা ঠিক কী বুঝি।

  • অক্ষমতা
  • অনুভূতিহীনতা
  • অনধিকারচর্চা

এগুলোর ফলস্বরূপ ব্যাক্তি জীবনে যে প্রভাবগুলি দেখা যায়; সেগুলি হল: অযথা বিলম্ব করার অভ্যাস, কর্মতৎপরতা কমে যাওয়া ইত্যাদি। জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নেগেটিভ ইমোশন কাজ করছে কী না, তা কতগুলি লক্ষণ দেখে নির্ধারণ করা যায়। সেগুলি:

  • খারাপ পরিবেশ
  • অযোগ্য ব্যক্তি দিয়ে কোন কাজ করানোর চেষ্টা
  • যে কোন পরিবর্তনের ভীতি
  • ঘন -ঘন পরিবর্তন
  • সিদ্ধান্তে অনাস্থা
  • আয়ের অনিশ্চয়তা
  • ভালো কাজের তারিফ না পাওয়া
  • পারিবারিক সমস্যা
  • উন্নতির আশা না থাকা ইত্যাদি।

Office Work Place 4 অফিসে নয় আবেগ | ক্যারিয়ার ম্যানেজমেন্ট | শামস্ বিশ্বাস

 

কর্মক্ষেত্র একটা যুদ্ধক্ষেত্র:

এখানে অনবরত ঘটে যাবে নানা ঘটনা। কোনটা ভালোলাগবে, আবার কোনওটায় মাথায় বাজ ভেঙে পড়বে। নানা দিক থেকে চাপ আসবেই। টাকা থেকে শুরু করে হঁঠাৎ করে বদলি সবটাতেই মেজাজ ঠিক রেখে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

যদি চাপের মুখে নিজের আবেগ সামলে নিয়ে চলা যায় তাহলে নিজস্ব উৎপাদন ক্ষমতার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিটা সিচুয়েশনেই আস্তে-আস্তে আবেগ নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। কাজের ক্ষেত্রে প্রধান সমস্যার হচ্ছে পরিস্থিতি আয়ত্তের বাইরে চলে যাওয়া মনের ভিতরের নেগেটিভ আবেগ গুলো সামনে চলে আসা। কর্মক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি কর্মজীবীদের প্রভাবিত করে ব্যর্থতা, রাগ, নিরাশা, দুঃশ্চিন্তা, হতাশা, নার্ভাস হয়ে পড়া, বিভিন্ন কিছু অপছন্দ করা, কোনও কিছুতেই খুশি না হওয়া, তার থেকে অবনতি। চাকরির বাজারে টিকে থাকতে গেলে এই সমস্ত আবেগকে প্রফেশনাল জীবন থেকে একেবারে বিদায় জানাতে হবে।

 

Office Workers 3 অফিসে নয় আবেগ | ক্যারিয়ার ম্যানেজমেন্ট | শামস্ বিশ্বাস

 

[[[ ক্যারিয়ার ক্যাটালগ:

]]]

পরিস্থিতি যতই খারাপের দিকে যাক না কেন ফ্রার্স্ট্রশেন বা বিরক্তি কিন্তু নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। কোনোভাবেই এই আবেগ যেন মাথায় না চেপে বসে। এমন সিচুয়েশনে পড়লে ভেবে বের করতে হবে বিরক্তির কারণ। খুঁজে দেখতে হবে পুরো ব্যাপারটার মধ্যে ভালো একটা দিক। অল্পেতেই হাল ছাড়া যাবে না। প্রথম বার কিছু নিয়ে নিরাশ হয়ে পড়েছেন এমনটা তো নয়। আগেও নিশ্চয়ই কখনও না কখনও এরকম কিছু হয়েছিল। মনে করার চেষ্টা করুন সেইবার কীভাবে সমাধানটা পাওয়া গিয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগান। ঠিক বেরিয়ে আসবেন সমাধান।

চাকরি নিয়ে দুঃশ্চিন্তা লেগে থাকাটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সেটা যদি ঠিকমত নিয়ন্ত্রণে না রাখতে পারলে, সেদিন দেরি নেই যেদিন কাজের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় রিস্কটাও নিতে ভয় পাবেন। ফলে কাজও ভালো হবে না, উলটো মানসিক ভাবেও ভেঙে পড়বেন। কাজের ক্ষেত্রে যা যা সমস্যা একটু লিখে রাখুন। অবসর সময়ে সেগুলো দেখে মাথা ঠান্ডা করে ভাবুন যে সিচুয়েশনটা কীভাবে হাল্কা করা যায়।

রাগের মাথায় কেউ কোন ভালো কাজ করেছে, এমন নজির বিশ্বের ইতিহাসে নাই। তাই, বলাই বাহুল্য রাগ সামলানো কঠিন কাজ। কিন্তু চাকরিটি যদি ভালোবাসেন, তাহলে রাগের মাথায় বরফ ঢালা ছাড়া অন্য উপায় নেই। হঠৎ করেই রাগ হয় না, একটু একটু করে রাগের কারণ তৈরি হয়। এই সময় সেটাকে আটকাতে চেষ্টা করুন।

Office Work Place 2 অফিসে নয় আবেগ | ক্যারিয়ার ম্যানেজমেন্ট | শামস্ বিশ্বাস

জীবনে নেগেটিভ ইমোশন নিয়ন্ত্রণ করার পদ্ধতি

  • যথাসম্ভব স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট করা। এর জন্য বই বা ওয়েবসাইট থেকে পরামর্শ নেয়া যায়। প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের সাথে কাউন্সিলিং করা যেতে পারে।
  • কর্মতৎপরতা বাড়াতে সাহায্য করে, সেই ধরনের কাজকর্মের নিয়োজিত হওয়া।
  • কোন ভাবেই আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে সবচেয়ে আপনদের কাছে থেকে সহায়তা নেয়া। তাদের না লুকিয়ে তাদের নজরদারিতে থাকা।
  • টেনশনকে প্রশ্রয় না দিয়ে, তাকে অঙ্কুরেই বিনষ্ট করা।
  • প্রয়োজন ছুটির, এবং অবশ্যই বিনোদন নেগেটিভ ইমোশনকে দূরে সরিয়ে রাখতে সাহায্য করে।

শেষ কথা:

ছোট বয়স থেকে সবাই জানেন যে জীবনের গাড়িটি সবসময় সোজা রাস্তায় চলবে না। এবড়ো -খেবড়ো, উঁচু-নিচু সবটাই থাকবে। তাই সবসময় নিজের সাথে সবকিছু ভালোই হবে এমন ভাবনা নিয়ে বসে থাকলে তো বোকার স্বর্গে বসবাস করতে হবে। আর চলার রাস্তায় একটা দুটো স্পিড ব্রেকার না থাকলে জীবনটা পানসে হয়ে যাবে! যদি প্ল্যানিং মত কাজ নাহয়ে থাকে তাহলে তা নিয়ে ভেবে-ভেবে সময় নষ্ট না করে নতুন করে ভাবুন।

Corporate Office 4 অফিসে নয় আবেগ | ক্যারিয়ার ম্যানেজমেন্ট | শামস্ বিশ্বাস

ভুল যেগুলো হয়েছিল সেগুলো শুধরে নতুন ভাবে এগোন। নিজের সমস্ত নেগেটিভ আবেগকে তালাচাবি মেরে তুলে রেখে হাসতে-হাসতে কর্মক্ষেত্র নামক যুদ্ধক্ষেত্র নামুন। জীবনটা কঠিন তাই বলে হাসতে ভুলবেন না। যখন আর কোনো কিছুই কাজে আসবে না। মন খুলে হাসার ব্যবস্থা করুন। হাসি কিন্তু সত্যি সত্যি মনে অনেক জোড় এনে দেয়।

আরও পড়ুন:

Leave a Comment