ডেস্কটা জঞ্জালে ভরাবেন না | ক্যারিয়ার ম্যানেজমেন্ট | শামস্ বিশ্বাস

ডেস্কটা জঞ্জালে ভরাবেন না : অনেকেই আছে নিজের বাড়ি গুছিয়ে সচেতন থাকলেও ওয়র্কপ্লেসটা জঞ্জাল দিয়ে ভরিয়ে রাখে। কিন্তু সে-খানেই দিনের বেশিরভাগ সময়টা কাটাতে হয়। সাধারণ একটা হিসাব মাথায় থাকে না – ডেস্কটা অগোছালো থাকলে কাজেই তো সমস্যা।

ডেস্কটা জঞ্জালে ভরাবেন না | ক্যারিয়ার ম্যানেজমেন্ট | শামস্ বিশ্বাস

[ ডেস্কটা জঞ্জালে ভরাবেন না | ক্যারিয়ার ম্যানেজমেন্ট | শামস্ বিশ্বাস ]

 

Office Workers 5 ডেস্কটা জঞ্জালে ভরাবেন না | ক্যারিয়ার ম্যানেজমেন্ট | শামস্ বিশ্বাস

আপনার এমনটা মনে হতেই পারে যে কি দরকার এত পরিশ্রমের! মোটের উপর তো ঠিকই চলছে। না, একেবারেই ঠিক চলিতেছে না। আপনার ডেস্ক অর্গানাইজড ভাবে রাখার অনেক ভালো ফল আছে, তা জানেন কি? প্রথমত সমস্ত কাজ সুষ্ঠুভাবে করা গেলে ফলাফলের দিক থেকে লাভবান হবেন, এটা নিশ্চয়ই বোঝেন। তাছাড়া ডেস্ক সুন্দর করে গুছিয়ে রাখা অফিসের সকলের কাছে আপনার পেশাদারিত্বেরই পরিচয় দেয়। আর কাজের জিনিষগুলো হাতের কাছে পেলে তো ভাবনা চিন্তা করে এগোতেও অনেক সুবিধা হয়। সুতরাং আর এত উল্টো ভাবনা ভাবতে হবে না।

Office Workers 2 ডেস্কটা জঞ্জালে ভরাবেন না | ক্যারিয়ার ম্যানেজমেন্ট | শামস্ বিশ্বাস

  •  অফিসে আপনি সারাদিন শুধু কাজই করে এ কথাটা তো খুব বিশ্বাসযোগ্য নয়। নিশ্চয়ই কাজের মাঝে মাঝে যথেষ্ট সময় আড্ডা চলে। অফিস -মজায় সময় কাটে। আচ্ছা, একদিন এই সময়টুকু তো ব্যবহার করতেই পারেন। ভালো করে ডেস্কটা ঘাটুন। এই যে একগাদা কাগজপত্র, হেনা -তেনা জমেছে সেগুলো সব ভালো করে দেখুন। যে সমস্ত জিনিষ ইহ জন্মে আর কাজে আসবেনা সেগুলোর মায়া ত্যাগ করুন। জঞ্জালগুলো একটু কমিয়ে ফেলুন তো দেখি। কম্পিউটারের ডেস্কটপ থেকে যেমন অপ্রয়োজনীয় আইকন গুলো ঝট করে সরিয়ে ফেলতে পারেন, এখানেও তাই করুন। অর্ধেক কাজ এখানেই শেষ। গল্প করতে করতেও কাজখানা করে ফেলতে পারবেন। আর তারপরে একটু সময় নিয়ে এক এক করে সাজিয়ে নিতে পারলেই ব্যাস ! টোটাল কেল্লা ফতে।
  • শুধু মাথায় রাখুন- একবার ডেস্কটা গুছিয়ে ফেলেছেন মানেই সব কাজ চিরতরে শেষ, একেবারেই কিন্তু তা নয়। যেমন করে সাজিয়ে গুছিয়ে নেবেন সেভাবেই যেন রাখতে পারেন সেদিকে খেয়াল রাখুন। পারলে রোজ ঠিক পাঁচটা মিনিট সময় হাতে রাখুন একবার করে চোখ বুলিয়ে দেখে নেওয়ার জন্য। সারাদিনের কাজের পরে যতটুকু অগোছালো হল সেটা একটু ঠিক করে নিন। খুব কিছু বিশাল কাজ সেটা মোটেই নয়।
  • ডেস্কের ড্রয়ারের সম্পূর্ণ সদ্ব্যবহার করুন। প্রয়োজন অনুযায়ী জিনিষ গুলো সাজান। একেবারে উপরের ড্রয়ারে রাখুন দরকারি ফাইলপত্র। কোনো সিঙ্গেল কাগজ আলাদা করে না রেখে সবগুলো গুছিয়ে একটা বা দুটো ফাইলের ভিতর রাখুন। খুব সুবিধা হবে পরে যদি ফাইলগুলো অ্যালফাবেটিকালি রাখতে পারেন। মনে রাখার জন্য অ্যালফাবেট স্টিকার ব্যবহার করতে পারেন। তারপরের ড্রয়ারে রাখুন প্রয়োজনীয় বিল, রিসিট। আর আপনার রোজকার কাজে আসে এমন বহু কিছুই তো আছে, সেগুলোও এইখানে রাখতে পারেন। কাজের সময় তাহলে আর একটা কিছুর দরকারে চিরুনি তল্লাশি চালাতে হবেনা। দেখবেন কতটা সুবিধা বোধ করবেন। আর একদম নিচের ড্রয়ারে রাখুন খুচখাচ জিনিষপত্র। যেমন ধরুন, মুখ চালানোর জন্য একটা বিস্কুটের প্যাকেট। বা ওষুধের একটা বাক্স কি ফোনের চার্জার বা এক্সট্রা পেনড্রাইভ। মানে একদম রোজ যেগুলো লাগবেনা সেইসব আরকি!
  • ডেস্কের উপরটাও কিন্তু ভালো করে গুছিয়ে রাখতে হবে। চেষ্টা করুন ডেস্কটা যতটা সম্ভব ততটাই খালি রাখার। একটু খোলাখুলি যেন আপনি কাজ করতে পারেন। কিছু জিনিষ রাখুন। যেমন একটা ক্যালেন্ডার, টু-ডু লিস্ট। মাল্টিপকেট পেন স্ট্যান্ড রাখুন একটা। যাতে শুধু পেন নয়, স্টিক, কাঁচি, আলপিন, স্টেপলার ইত্যাদি ছোটোখাটো সব সুন্দর করে রাখা যেতে পারে। চাইলে একটা ফোটোফ্রেমে আপনার মন ভালো করা কোনো ছবিও রাখতে পারেন।
  • ডেস্কের দেওয়ালটাও ব্যবহার করতে পারেন। স্টিকি নোট্স বা বোর্ড পিন ব্যবহার করুন এক্ষেত্রে। তবে হ্যাঁ, কাজ হয়ে গেলে সেগুলো সরিয়ে ফেলবেন ভালোয় ভালোয়। নয়ত নোট্সের উপর নোট্স জমতে জমতে তথৈবচ অবস্থাতেই আবার দাঁড়িয়ে যাবে পুরো ব্যাপারখানা।
  • যদি কোনোভাবেই উদ্ধার করতে না পারেন আপনার ডেস্কটা কোথায় অগোছালো। বা কিভাবে কোন জিনিষটা বদলালে ভালো হয়, তবে এক কাজ করুন। একটা ক্যামেরা নিন। আপনার ডেস্কটির বিভিন্ন দিক থেকে ছবি তুলে সেগুলো খুঁটিয়ে দেখুন। দেখবেন মুশকিল আসান হয়ে যাবে।
  • তবে এসব করতে গিয়ে বাড়াবাড়ি করে বসবেন না যেন! যতটুকু আপনার পক্ষে সম্ভব ঠিক ততটাই করবেন। সারাদিন এই নিয়েই পরে থাকলেন আর কাজ উঠল মাথায়।

প্রতিদিনের কাজ প্রতিদিন শেষ করুন, নিজের ডেস্ক গুছিয়ে রাখা সহজ হবে।

আরও পড়ুন:

আরও পড়ুন:

Leave a Comment