ভালো থাকার মন্ত্র | ক্যারিয়ার ম্যানেজমেন্ট | শামস্ বিশ্বাস

ভালো থাকার মন্ত্র : জীবণ একটাই। একবারই আসে সে। তাই তলানি পর্যন্ত শুষে নেওয়াটা খুব জরুরি। এ সব নিয়ে আগেই অনেক কথা বলে দিয়ে গিয়েছেন দার্শনিকেরা। জানতে বাকি নেই আপনার-আমার। তবু বারবার ভুলে যাই সেই ছোট্ট কথাটা। ভাল থাকার বদলে অকারণেই দুঃখ আগলে বসে থাকি! আর বলি, এ জীবণটা বড় কঠিন! এ সব পুরনো কাসুন্দি না ঘেঁটে বরং জীবণটা উপভোগ করুণ। সুখপাখি জন্য আর অপেক্ষা করতে হবে না।

ভালো থাকার মন্ত্র | ক্যারিয়ার ম্যানেজমেন্ট | শামস্ বিশ্বাস

[ ভালো থাকার মন্ত্র | ক্যারিয়ার ম্যানেজমেন্ট | শামস্ বিশ্বাস ]

[[[ ক্যারিয়ার ক্যাটালগ:

]]]

Office Workers 5 ভালো থাকার মন্ত্র | ক্যারিয়ার ম্যানেজমেন্ট | শামস্ বিশ্বাস

দুঃখ তো থাকবেইে। ওগুলো তো আমাদের হাতে নেই, তা বলে শুধু সেই নিয়ে বসে থাকলেও চলবে না। ভাল থাকাটা কিন্তু আপনার নিজের হাতে। চাইলেই পারেন, এটা ভুলবেন না। কীভাবে ভাল থাকতে পারেন, রইল তার ক’টা টিপস।

ভাল থাকার সবথেকে বড় ঔষধ হাসি। ওটা ভুললেই কিন্তু মুশকিল। হাসলে নিঃসৃত হয় এনডরফিন হরমোন, যা ভাল করে দেয় আমাদের মেজাজ। শুধু তাই নয়, হাসলে ভাল থাকে আমাদের হৃদয়। ক্যালোরি পোড়াতেও সাহায্য করে হাসি।

বারবার মন খারাপের কারণ কিন্তু শারীরিকও হতে পারে। দুর্বল স্বাস্থ্য, ঘ্যানঘেনে অসুখ-বিসুখ প্রভাব ফেলে মনে। সম্প্রতি একটি সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, শরীরে পুষ্টির ঘাটতি হলে আসতে পারে অবসাদ। মস্তিষ্কের গঠনে সাহায্য করে ওমেগা-থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড। এর ঘাটতিও কিন্তু ডেকে আনে অবসাদ। তাই রোজকার খাদ্য তালিকায় রাখুন পুষ্টিকর আহার। বিশেষত ভিটামিন-বি সমৃদ্ধ খাবার, যা অবসাদ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখে।

Office Workers 3 ভালো থাকার মন্ত্র | ক্যারিয়ার ম্যানেজমেন্ট | শামস্ বিশ্বাস

সকাল থেকে মেজাজটা ভালই ছিল। হঠাৎ কী হল, বিগড়ে গেল। এই মুড সুইংয়ের কারণ ভিটামিন ডি-এর অভাবে হতে পারে। ভিটামিন ডি-এর অন্যতম উৎস সূর্যরশ্মি। তাই সপ্তাহে অন্তত দু’দিন ১৫ মিনিট করে রোদে থাকুন। এমনিই ভাল হয়ে যাবে মন।
শরীরচর্চা কিন্তু মুহূর্তে ভাল করে দিতে পারে আপনার মনমেজাজ। ব্যায়াম করলে মস্তিষ্কে নিঃসৃত হয় এমন কিছু রাসায়নিক, যা আপনাকে নিষ্কৃতি দেবে চিন্তা-ভাবনা থেকে। শরীরচর্চার ফলে মস্তিষ্কে নিঃসৃত হওয়া এনডরফিন এবং অ্যানান্ডামাইড এই কাজটি করে। তাই প্রতিদিন অন্তত ১৫ মিনিট সময় বের করুন। শররিচর্চার জন্য।

কয়েক ধরণের সুগন্ধী কিন্তু শুষে নিতে পারে আমাদের মন খারাপ। এটি বহুপরীক্ষিত সত্য। বার্গামোট, জেরানিয়াম, নেরোলি, জেসমিন-এই এসেন্সের মোমবাতি জ্বালান ঘরে। বা এই এসেন্সর রুম ফ্রেশনারও ছড়িয়ে দিতে পারেন ঘরে। গোসলের পানিতে মেশাতে পারেন এই সুগন্ধী তেল। তা হলেও একই ফল পাবেন।

হঠাৎ করে বেড়াতে যাওয়ার পরিকল্পনা করতে পারেন। পড়ুয়ারা বিদেশে কিছু পড়ার জন্য আবেদন করতে পারেন। এ সব চলার সময় বেশ কিছুদিন উত্তেজনার পারদ থাকবে তুঙ্গে। তাই ভুলেই যাবেন মনখারাপের গল্প!

Office Workers 2 ভালো থাকার মন্ত্র | ক্যারিয়ার ম্যানেজমেন্ট | শামস্ বিশ্বাস

মনখারাপের পালাটা যদি একটু বেশিই লম্বা হয়, তা হলে কোনও বন্ধুকে বিষয়টা জানান। দরকার হলে পরামর্শ নিন মনোবিদের। মনের কথাটা বললে অনেক সময় নিজেকে বেশ হালকা লাগে। সমস্যার সমাধান হয়তো নাও হতে পারে, কিন্তু মেজাজটা ভাল হয়ে যাবে। জীবনের ইতিবাচক দিকটা সামনে উঠে আসবে।

খুব ছোট ছোট জিনিসও অনেক সময় মন ভাল করে দেয় আপনার। সেই ছোট ছোট জিনিসগুলোই খুঁজে বের করার চেষ্টা করুন। সেটা বাগানের গাছে পানি দেওয়া হতে পারে বা দুপুরবেলা ছাদে বসে আচার খাওয়া। আপনি ভেবে দেখুন, মনখারাপের মুহূর্তে ঠিক কী করতে ভাল লাগে আপনার। খুব ভাল থাকার সময়ই বা কী করেন। সেগুলোই করুন, ভাল থাকবেন আপনিই।

জীবনে কম-বেশি দুঃখ সবারই থাকে। নিজের কষ্টটা সরিয়ে রেখে অন্যকে যদি একটু সাহায্য করতে পারেন, তা হলে ভাল থাকবেন আপনিই। অবসর সময়ে কোনও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনে যোগ দিতে পারেন। বা দুঃস্থ শিশুদের পড়াতেও পারেন। এতে উপকার হবে ওদের। ফল পাবেন আপনিও। বন্ধুরা বিপদে পড়লে তাঁদের পাশে দাঁড়ান। পরিবারটাও হেলাফেলার নয়। কথায় বলে না, নিজের ঘর থেকেই শুরু হয় জনসেবা। এই কথাটাই কাজে পরিণত করুন।

জীবনে কী করতে চান, সেটা জানা খুবই জরুরি। সেই মতো তৈরি করুন নিজেকে। যেটা ভাল লাগে, সেটাই করুন। জোর করে কিছু করতে যাবেন না। তাতে সারাজীবন খারাপ থাকবে নিজেই। লক্ষ্যটা নিয়ে ভাবুন, তা হলে মনখারাপ হওয়ার সময়ই থাকবে না।

Office Work Place 4 ভালো থাকার মন্ত্র | ক্যারিয়ার ম্যানেজমেন্ট | শামস্ বিশ্বাস

আরও পড়ুন:

Leave a Comment