রাগকে পরান লাগাম | ক্যারিয়ার ম্যানেজমেন্ট | শামস্ বিশ্বাস

রাগকে পরান লাগাম: রাগারাগির জন্য কিন্তু রাগ জন্ময় না। মানসিক আর সামাজিক চাপ আমাদের রেগে যেতে সহায়তা করে। অপছন্দ থেকেই বিরক্তি, আর বিরক্তি যখন সহ্যের চরম সীমা ছাড়ায় তখন জন্ম দেয় রাগের। মানুষ মাত্রই রাগ হয়, আর কিছু কিছু রাগ আক্রমণাত্মক হয়ে উঠলে জন্ম দেয় ক্রোধের। আর এই ‘ক্রোধ প্রবণ’রাই বদরাগীর উপাধি পেয়ে যায়। জীবন যন্ত্রণায় জর্জরিত আমরা একটু একটু করে বদরাগী হয়ে উঠছি। যা জমে জমে বাড়ছে প্রতিহিংসা আর আরও বেশি মাত্রায় হলে জিঘাংসা। কাজের দুনিয়ায় যার মারাত্মক রকম ভয়ঙ্কর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে।

রাগকে পরান লাগাম | ক্যারিয়ার ম্যানেজমেন্ট | শামস্ বিশ্বাস

[ রাগকে পরান লাগাম | ক্যারিয়ার ম্যানেজমেন্ট | শামস্ বিশ্বাস ]

[[[ ক্যারিয়ার ক্যাটালগ:

]]]

কাজের চাপ আর সহকর্মীর সুড়সুড়ি কিংবা বসের ছোট্ট বকা এগুলোকে মুহূর্তে ভয়ানক করে তোলে। এছাড়া আড়াল থাকে নানান পারিবারিক অথবা সামাজিক সমস্যার চাপ। তাই রাগকে এড়িয়ে যাওয়ার একমাত্র মূলমন্ত্র অনুরাগী হয়ে ওঠা। রাগ হতে শুরু করলেই মুহূর্তে চিন্তা করতে থাকতে হবে আমাদের অনুরাগী বিষয়গুলিকে। তাতেও না কমলে মনে করতে হবে সবসম্ভবের দুনিয়ায় সবই সম্ভব।

Corporate Office 1 রাগকে পরান লাগাম | ক্যারিয়ার ম্যানেজমেন্ট | শামস্ বিশ্বাস

আমাদের চারপাশে এমন অনেক কিছুই ঘটে থাকে বা আমাদের পছন্দ হয় না। আবার সেই সব কারণে রাগ প্রকাশ করেও কোনও লাভ হয় না। তবে সবার স্বভাব সমান হয় না। একজন মানুষ হয়ত সামান্য কারণেই রেগে যায়, আবার কেউ একটু অন্যরকম। রাগ আমাদের সকলেরই হয়। তফাতটা তখনই দেখা যায় যখন আমাদের মধ্যে কেউ কেউ রাগটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। আমরা এই রাগ যে শুধু আমাদের ক্ষতি করছি তা নয়, আমাদের পরিবার, একান্ত প্রিয়জন, প্রতিবেশী, বন্ধু-বান্ধব এমনকী কর্মক্ষেত্রেও তার প্রভাব পড়ে।

কোনও মানুষ যদি দিনের বেশির ভাগ সময় রেগে থাকেন, বা এমন বিষয়ে অতিরিক্ত রেগে যান যে বিষয়ের কোনও গুরুত্ব নেই তার জীবনে বা সামান্য কারণে অধৈর্য হয়ে গেলে ধরে নিতে হবে, তার রাগটা ক্রনিক ক্রোধে পরিণত হয়েছে। একটা বিষয়ে সবসময় খেয়াল রাখতে হবে রাগকে সাইলেন্ট কিলার বলা হয়। রাগ হলে আমাদের শরীরে এক ধরনের টক্সিন নিঃসৃত হয়, যা রক্তের সঙ্গে মিশে আমাদের শরীরের ক্ষতি করে থাকে। ক্রনিক অ্যাঙ্গার থেকে নানা ধরণের অসুখও হতে পারে, যেমন হাই ব্লাড প্রেসার, হাই কোলেস্টেরল লেভেল, ও কোনও কোনও ক্ষেত্রে স্ট্রোকও হতে পারে। তাই হঠাৎ করে যাদের রেগে যাওয়ার প্রবণতা আছে, তাদের এই বিষয়ে সময় থাকতে চিন্তাভাবনা করা উচিত।

Corporate Office 2 রাগকে পরান লাগাম | ক্যারিয়ার ম্যানেজমেন্ট | শামস্ বিশ্বাস

যখন কোনও বিষয়ের বা ব্যক্তির উপর রাগ হবে, তখন চেষ্টা করুন সেখান থেকে সরে যেতে। যদি ঘরে যেতে না পারেন তাহলে ব্যাক কাউন্টিংও করতে পারেন, এতে রাগ কমে। এছাড়া প্রতিদিন নিয়ম করে ধর্মীয় প্রার্থনা ও মেডিটেশন করুন। চেষ্টা করুন এভাবেই এ সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসতে।

ক্ষণিকের রাগ অনেক উটকো ঝামেলা নিয়ে আসে। তাই প্রথম থেকেই রাগের কারণগুলো জন্মাবার আগে তাকে ঝেড়ে ফেলতে শিখতে হবে। যেমন কারও উপর রাগ হচ্ছে, তাকে মুহূর্তে এড়িয়ে চলুন। আবার গায়ে পড়ে খোঁচাখুঁচি করলে হয় উদাসী কথা বলবেন অথবা হাস্যকর ব্যাপার করে বিষয়টাকে হাওয়ায় উড়িয়ে দিন। সিনিয়র হলে একদম হাসিয়ে ছেড়ে দিন। আর ঘটনার চাপকে কখনও মাথায় স্থান দেওয়া যাবে না। এই বিষয়গুলো মেনে চললে দেখবেন, রাগ থাকবে আপনার বশে আর ‘রাগের বশবর্তী হয়ে’ দুর্ঘটনা ঘটনার সম্ভাবনা নেমে যাবে শূন্যে।

আরও পড়ুন:

Leave a Comment