রাত জেগে কাজের ভালো মন্দ | ক্যারিয়ার ম্যানেজমেন্ট | শামস্ বিশ্বাস

রাত জেগে কাজের ভালো মন্দ : রাত জেগে কাজ করা ভালো নয়। তবে এখন যে ধরনের পেশার মডেল তৈরি হচ্ছে, তাতে বহু মানুষকেই সারা রাত কাজ করতে হয়। নাইট শিফটে কাজ করার ভাবলেই অনেকের গায়ে জ্বর আসে। অনেকে আবার ঠিক তার উল্টো। তাঁরা আবার রাতের শিফটের কাজে অনেক বেশি উৎসাহী। এখন বিপিও গোছের অফিসে অনেকেই কাজ করেন। সে সব অফিসের একটা বড় অংশের কর্মচারীকে রাতের শিফটে কাজ করতে হয়। এবং বহু মানুষকেই সেই নাইট শিফটের কাজ করে যেতে হয় বছরের পর বছর ধরে। এই ধরনের কাজের ক্ষেত্রে সুবিধা আর অসুবিধা দুই -ই রয়েছে। হিসাবনিকাশ করে তাই ভবিষ্যৎ নির্বাচন করাই ভালো হবে যে কোনও মানুষের ক্ষেত্রে।

রাত জেগে কাজের ভালো মন্দ | ক্যারিয়ার ম্যানেজমেন্ট | শামস্ বিশ্বাস

[ রাত জেগে কাজের ভালো মন্দ | ক্যারিয়ার ম্যানেজমেন্ট | শামস্ বিশ্বাস ]

[[[ ক্যারিয়ার ক্যাটালগ:

]]]

Office Workers 1 রাত জেগে কাজের ভালো মন্দ | ক্যারিয়ার ম্যানেজমেন্ট | শামস্ বিশ্বাস

অসুবিধা:

রাতের শিফটে কাজ করার ক্ষেত্রে প্রাথমিক সমস্যাটিই হয়ে থাকে শারীরিক। আমাদের বডি ক্লক নির্দিষ্ট নিয়মে অভ্যস্ত। জিনগতভাবেই আমরা দিনে কাজ করা আর রাতে ঘুমানোতেই স্বাভাবিক থাকি। অনেকে আবার মনে করেন, তাঁদের খুব কম ঘুমালেও চলে যায়। আর অনেকের ক্ষেত্রে ঘুমের চাহিদা একটু বেশি। কিন্তু সব মিলিয়ে শরীরের ওপর দিনের পর দিন রাত জাগার প্রভাব তো পড়বেই।

প্রধান সমস্যা হয় রক্তচাপ বৃদ্ধির। আর যদি নির্দিষ্ট সময় অন্তর দিন আর রাতের শিফটে পরিবর্তন হতে থাকে, সেক্ষেত্রে এই সমস্যা আরও বৃদ্ধি হতে পারে। যারা দিনের পর দিন রাতের পালা বা নাইট শিফটে কাজ করেন তাদের মাঝে দীর্ঘমেয়াদী শারীরিক ক্ষতির ঝুঁকিও তৈরি হয়। বিশেষ করে দেহঘড়ির এই পরিবর্তন বা ঘুমের সময়ের পরিবর্তন মানুষের দেহের ওপর খুব দ্রুত প্রভাব ফেলে। এতে করে দেখা যায় যে, এসব ব্যক্তির রক্তের ডিএনএ’র মাঝে এক ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে।

অনিয়মিত ঘুমে মানুষের শরীরে ৯৭ শতাংশ জিন নিজেদের স্বাভাবিক কার্যক্রম সম্পন্ন করার ব্যাপারে বিশৃঙ্খলায় পড়ে যায়। রাত জেগে কাজ করলে দেহ ঘড়ির স্বাভাবিকতায় ছন্দপতন হয়, তছনছ হয়ে যায় দেহের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া আর এর ফলে যে অপূরণীয় ক্ষতি হয় তা হয় দীর্ঘমেয়াদি। রাতের পালায় যাঁদের কাজের সঙ্গে উচ্চরক্তচাপ, হৃদরোগ ও ক্যানসারের ঝুঁকির সম্পর্ক খুঁজে পাওয়া গেছে। মানুষের শরীরের একটি প্রাকৃতিক ছন্দ বা দেহ ঘড়ি রয়েছে যার ছন্দ হচ্ছে রাতে ঘুম আর দিনে কাজ।

রাতে জাগার ফলে হরমোন পরিবর্তন, দেহের তাপমাত্রায় রদবদল, মেজাজ ও মস্তিষ্কের কাজকর্মে ব্যাপক প্রভাব পড়তে দেখা যায়। কেউ যদি কম্পিউটারে কাজ করে ঘুমাতে যায়, তার মস্তিষ্ক উত্তেজিত থাকে। ফলে ভালো ঘুম হয় না। এতে করে সে ক্ষুধামান্দ্য, বিষণ্নতা, স্নায়ুবৈকল্য ইত্যাদি সমস্যায় ভুগতে পারে। অনেকে রাতে জাগার জন্য ঘন ঘন চা-কফি খান, এটিও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।

সুবিধা

শারীরিক অসুবিধা যেমন রয়েছে, বেশ কিছু সুবিধাও পাওয়া যায় রাতের শিফটে কাজ করলে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই রাতের শিফটের কাজের ক্ষেত্রে একটু উচ্চ পে-স্কেল থাকে দিনের শিফটে কাজের চেয়ে। দিনের বেলা যে কাজগুলো করার দরকার থাকে, সেগুলো করার জন্য বেশি সময় পাওয়া যায়। আর যদি সপ্তাহে দু’দিন বেশি ঘুমিয়ে বাকি দিনগুলো কাজ করে যেতে পারেন, রাতের শিফটের কাজ আপনার জন্য আদর্শ। কারণ নাইট শিফটের কাজে অধিকাংশ ক্ষেত্রে ইউরোপ-আমেরিকারমত শনি এবং রবিবার দুটো দিনই ছুটি পাওয়া যায়। এই সাথে নিজস্ব প্রয়োজনে দিনের বেলার পুরো ওয়ার্কিং আওয়ার পুরোপুরি ব্যবহার করা যায়।

Office Work Place 4 রাত জেগে কাজের ভালো মন্দ | ক্যারিয়ার ম্যানেজমেন্ট | শামস্ বিশ্বাস

আরও পড়ুন:

Leave a Comment