বেতন কত চাবেন? | ক্যারিয়ার ম্যানেজমেন্ট | শামস্ বিশ্বাস

বেতন কত চাবেন? | ক্যারিয়ার ম্যানেজমেন্ট | শামস্ বিশ্বাস : সফল ইন্টার্ভিউ শেষ করার পরে অংশেই শুরু হয় ঝামেলা। প্রার্থীর চাকরি পেতে যা যা থাকা দরকার তার প্রায় সবই রয়েছে প্রার্থীর – গ্লোরিয়ার একাডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ড, শক্তিশালী লিঙ্কডইন প্রোফাইল, জবরদস্ত রিজ্যুমি। তার পরেও মুক্তি মিলে না এই ঝামেলা থেকে। সাধারণত ফোন করা হয় পে প্যাকেজের জন্য।

বেতন কত চাবেন? | ক্যারিয়ার ম্যানেজমেন্ট | শামস্ বিশ্বাস

বেতন কত চাবেন?

অনেকে আবারো ডেকে নেন অফিসে। এ বিষয়ে কথাবার্তা হয় সংস্থার সংশ্লিষ্ট বিভাগের সাথে। এখানে যে ফ্রেশারদের প্রশ্ন করা হয় – কত চান বেতন? যারা চাকুরীতে আছেন তাদের জিজ্ঞেস করা হয়, বর্তমান চাকরিতে কত বেতন পাচ্ছেন। আর সেখানেই ঝামেলা।

সাধারণত ধরা হয়, এই প্রশ্ন দিয়ে একই সঙ্গে চাকরিপ্রার্থীর চিন্তা, দূরদর্শিতা, বাস্তববোধ, মানসিক শক্তি ও অভিজ্ঞতা পরীক্ষা করে নেওয়া হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই পর্বে এক কথায় খানিকটা দড়ি টানাটানি হয়। এই টানাটানির জেরে অনেক সময়ই প্রার্থীরা বেতন খুইয়ে বসেন। তবে কৌশলী হলে এ পর্বেও শেষ হাসি হাসা যায়। অর্জন কারা যায় কাঙ্ক্ষিত বেতনের অংক।
স্যালারির ফিগার বলার সময় অবশ্যই তিনটা বিষয় বিবেচনা করবেন। সেগুলো হল:

১. ন্যূনতম বেতন:

প্রাসঙ্গিক কিছু প্রতিষ্ঠানে খোঁজখবর নিয়ে নিশ্চিত হয়ে নিন আপনি যে পদে চাকরির জন্য আবেদন করেছেন সে পদের ন্ন্যূতম বেতন কত। তাই বলে সেই ন্ন্যূতম বেতনটিই দাবি করে বসবেন না। এতে নিয়োগদাতা আপনাকে অসহায় কিংবা ছোট মনের মানুষ ভেবে বসতে পারেন।

Office Desk 2 বেতন কত চাবেন? | ক্যারিয়ার ম্যানেজমেন্ট | শামস্ বিশ্বাস

২. কাঙ্ক্ষিত বেতন:

আপনার আবেদন করা পদের জন্য সর্বচ্চ বেতন কত হতে পারে তা খোঁজখবর করে জেনে নিন। এবার হিসেব করে দেখে নিন সেই পদটিতে কত টাকা বেতন পেলে আপনার মনের মত হবে। যেটি পেলে যথেষ্ট ভালোই হবে আপনার। তাই বলে আবার সেটিই দাবি করে বসবেন না। কেননা এতে কর্তৃপক্ষ আপনাকে উচ্চাভিলাষী কিংবা বাস্তবজ্ঞান-বিবর্জিত মানুষ হিসেবে ভেবে বসতে পারে!

৩. ন্যায্য বেতন:

আপনার লাইফ স্টাইল, আর্থিক চাহিদা এবং সামাজিক অবস্থান বিবেচনা করে আপনি ন্ন্যূতম ও কাঙ্ক্ষিত বেতনের মাঝামাঝি একটি অঙ্ক বের করে নিতে পারেন। এতে আপনার প্রজ্ঞ ও বিচারবোধ যেমন প্রশংসিত হবে, তেমনি ন্যায্য বেতন পাওয়ারও প্রবল সম্ভাবনা থাকবে।

Corporate Office 3 বেতন কত চাবেন? | ক্যারিয়ার ম্যানেজমেন্ট | শামস্ বিশ্বাস

যেভাবে দরকষাকষি করবেন

স্যালারি প্যাকেজের কথা বলার সময় যদি নিজের ওপর আপনারই সন্দেহ থাকে, তবে আপনি নিঃসন্দেহে হারবেন। কনফিডেন্সের সাথে কথা বলুন। যা করবেন সেটা অফার লেটার হাতে পাওয়ার আগেই করতে হবে। একবার সেটা টাইপ হয়ে আপনার হাতে পৌঁছে যাওয়ার পরে কর্তৃপক্ষ আপনার কোনো কথা শুনবে না। আগামী দিনে অ্যাপ্রাইজালের ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি করতে পারে। তাই স্যালারি প্যাকেজের জন্য যেভাবে এগুবেন:

  •  একটু খোঁজ খবর করে বের করুন, যে সংস্থায় চাকরি নিতে যাচ্ছেন, সেখানে অন্যান্যরা কেমন বেতন পান। এই তথ্যটা জনলে বুঝতে পারবেন আপনার কাঙ্ক্ষিত বেতনটা পাবেন কি না।
  • আগে শুনে নিন আপনাকে কী দেয়ার কথা ভাবে হচ্ছে, তার পর আপনি কী চাইছেন সেটা বলুন। মনে রাখবেন প্রথমে যে প্যাকেজটা আপনাকে দেয়া হবে সেটা কম হিসাবেই ধরা থাকে। তাই অপেক্ষা করুন।
  • এক কথায় জবাব দেবেন না, নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা বলবেন না। কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য থাকবে কম দেয়ার। তাছাড়াও চাকুরীপ্রার্থী আপনি একা নন। সবচেয়ে ভালো হয় আপনি যদি আপনার চাহিদা অনুযায়ী প্রত্যাশিত বেতনের একটা সীমানা নির্ধারণ করে দেন।
  • মনে রাখবেন যিনি আপনার সাথে বেতন নিয়ে কথা বলছেন, তিনি আপনার থেকে অনেক বেশি অভিজ্ঞ। তাই আপনি যা চাইছেন তারা সব সময় সেটি কমানোর চেষ্টা করবেন। তাই একটু বেশি বলুন।
  • বেতনের কথা উঠলে আগে বুঝে নিতে হবে, মূল বেতন নিয়ে আলাপ করছেন, নাকি সুবিধাদিসহ মোট বেতন নিয়ে কথা হচ্ছে। হয়তো চাকরিদাতারা মূল বেতন নিয়ে কথা বলছেন, কিন্তু সেই অঙ্ক কম মনে করে আপনি অনেক বেশি চাইছেন। এ জন্য শুরুতে বেতনের কোন অংশ নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, তা জেনে নিন।
  • মনোযোগ সহকারে প্রশ্নকর্তাদের আলাপচারিতা ও বাচনভঙ্গি পর্যবেক্ষণ করুন। তাড়াহুড়ো করে নিজের মতামত স্পষ্ট করার দরকার নেই। এমনও হতে পারে, প্রশ্নকর্তারাই আপনাকে পথ দেখিয়ে দিচ্ছেন।
  • ব্লাফ সব সময় খাটে না। যদি সত্যিই আপনার কাছে অন্য সংস্থার ভালো বেতনের অফার থাকে সেটা বলুন। না হলে নয়। যদি সেই সংস্থা বর্তমান সংস্থার প্রতিদ্বন্দ্বী হয়, তবে তো পোয়াবারো।
  • আগের অফিসে বেতন যা পেতেন তার সাথে অন্যান্য সুযোগ সুবিধা এবং বোনাস অবশ্যই ধরবেন। তারপর প্যাকেজের কথা বলুন।
  • মাথা ঠাণ্ডা রেখে যুক্তি দিয়ে কথা বলুন। কোনো ক্ষেত্রেই মাথা গরম করা চলবে না। আপনি যে প্যাকেজটি চাইছেন তা যে আপনি পাওয়ার যোগ্য সেটা যুক্তি দিয়ে বুঝিয়ে দিন।
  • আলোচনার সময় কাজের ধরন, প্রতিষ্ঠানের ধরন এবং প্রশ্নকর্তার মনোভাব অনুযায়ী নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করবেন। চলমান পরিবেশকে প্রাধান্য দিন, সফলতা আসবেই।
  • ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে জবাব দিন। আপনি আসলে কাজটি করবেন কি না, কতদিনের জন্য করবেন, এর ভেতরে আপনার আর্থিক চাহিদা বৃদ্ধি পেতে পারে কি না এসব ব্যাপারে আগেই ভেবে রাখুন। কারণ, বর্তমান চাহিদার কাছাকাছি বেতন হলে আপনি যোগদান করে ফেলতে পারেন, কিন্তু বর্তমান চাহিদা পূরণ হবার পর আপনার চাহিদা বৃদ্ধি পেতে পারে।
  • শুধু স্যালারি প্যাকেজ নিয়ে নয়, স্যালারি ব্রেক ডাউন করে বুঝে নিন মাস গেলে হাতে কত পাবেন। যদি সেখানে কোনো রিইমবার্সমেন্ট-এর ব্যাপার থাকে, তার নিয়মগুলি ভালো করে জেনে নিন, না হলে মাসের শেষে চোখে শর্ষে ফুল দেখতে পারেন।
  • পরিস্থিতি যদি এমন হয়, আপনার কাঙ্ক্ষিত সংস্থায় কম বেতনে চাকরি পাচ্ছেন, একই সাথে একটি ভালো সংস্থায় বেশি বেতনের চাকরি পেলেন। কোনটা করবেন? যদি প্রথমটা বাছেন, তাহলে কিন্তু ভুল করবেন। জানবেন, আপনার প্যাকেজ দেখেই পরবর্তী সংস্থার প্যাকেজ ঠিক করা হবে। তাই এ ক্ষেত্রে মনের কথা না শুনে মস্তিষ্কের কথা শুনুন।
  • যদি কর্তৃপক্ষ প্যাকেজের ব্যাপারে কোনো কথা শুনতে রাজি না থাকেন, তবে না বলতে ভয় পাবেন না। যদি রাজি হয়ে যান তবে তারা চেপে বসতে পারে। না বলার অর্থ আপনি এর থেকে ভালো বেতনের কাজ পাবেন সেটা বুঝিয়ে দেয়া। এটাও অনেক সময় কাজ করে।

Office Workers 5 বেতন কত চাবেন? | ক্যারিয়ার ম্যানেজমেন্ট | শামস্ বিশ্বাস

এড়িয়ে যান:

হতে পারে আপনি সচ্ছল, কাজটিকে আপনি ভালোবাসেন অথবা প্রতিষ্ঠানের সুনাম আপনি নিজের কাজে ব্যবহার করতে চান। বিশেষ কোনো চাহিদা না থাকলে এসব প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়াই ভালো। যোগদানের পর অদূর ভবিষ্যতেও এ ব্যাপারটি নির্ধারিত হতে পারে। আবার অনেকের কাছেই বেতনের বিষয়টি মাথাব্যথার কারণ নয়। এসব ক্ষেত্রে প্রশ্নটি এড়িয়ে যান কিংবা আপনার বিশেষ কোনো চাহিদা নেই বলে জানিয়ে দিন।

আরও পড়ুন:

 

Leave a Comment