আত্ম-কর্মসংস্থান: শহরের প্রেক্ষাপট

আত্ম-কর্মসংস্থান: শহরের প্রেক্ষাপট আমাদের আজকের আলোচনার বিষয়। এই পাঠটি “বাউবি এসএসসি ২৩৫৮ ক্যারিয়ার শিক্ষা” এর  “কর্মক্ষেত্র নির্বাচন এবং ক্যারিয়ার উন্নয়ন” ইউনিট ৪ এর অন্তর্ভুক্ত।

 

আত্ম-কর্মসংস্থান: শহরের প্রেক্ষাপট

 

শিল্পায়নের যুগে বা নবায়নের যুগে মানুষ দল বেঁধে ছুটছে শহর পানে। কর্মসংস্থানের জন্য সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার জন্য শহরের বসবাসকে আধুনিক জীবন যাপন মনে করে। জীবন চালানোর জন্য প্রয়োজন অর্থের সংস্থান। মানুষ চায় স্বচ্ছলভাবে চলতে। এক্ষেত্রে আত্ম-কর্মসংস্থান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এই পাঠে শহরের প্রেক্ষাপটে আত্মকর্ম সংস্থানের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা হবে।

শহরের প্রেক্ষাপট : শহরমুখী মানুষের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। তাই শহরে বেকার সমস্যাও প্রকট আকার ধারণ করছে। আত্ম-কর্মসংস্থানই এ সমস্যা সমাধানের অন্যতম উপায়। প্রয়োজন দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে পুঁজি বিনিয়োগ। দক্ষতা না থাকলে পুঁজি বিনিয়োগ করলে বা শ্রম বিনিয়োগ করলে আশানুরূপ ফল পাওয়া যায় না। তাই সেলস্ম্যান, ফটোকপির দোকান, হার্ডওয়্যারিং, কম্পিউটার মেরামত, মোবাইল সার্ভিসিং, ব্লক বাটিক, বুটিক শপ, নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য যেমন টি- শার্ট, গেঞ্জি, প্যান্ট, লুঙ্গি, পানের দোকান, ভ্রাম্যমাণ সব্জির ব্যবসা, পত্রিকা ও বিভিন্ন ধরণের ম্যাগাজিন, স্ক্রিন প্রিন্ট, ডিজিটাল প্রিন্ট, চা-বিক্রি ইত্যাদি ছোটখাটো কর্মের সাথে আত্ম নিয়োগ করা যায়।

তবে ঋতুভেদে ব্যবসার ভিন্নতাও আছে। যেমন- শীতকালে গরম কাপড়, বর্ষাকালে ছাতা, গ্রীষ্মে নানান ফলের ব্যবসার সাথে সম্পৃক্ত হওয়া যায়। তাছাড়া রাজমিস্ত্রি ও কাঠমিস্ত্রি, প্লাম্বার ইত্যদি কাজেও সহকারী হিসেবে সম্পৃক্ত হওয়া যায় ।

 

শহরের প্রেক্ষাপট

 

ঔষধের দোকান: ঔষধের দোকান একটি অতি প্রয়োজনীয় ব্যবসা। এখানে সেবা ও ব্যবসা দু’টোই সমান চলে। তবে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, দক্ষ বিক্রয়কর্মী ও দোকানের অবস্থান বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। ব্যবস্থাপত্রের মাধ্যমে ঔষধ বিক্রি করতে চাইলে দোকানের এক কোণে ডাক্তারের চেম্বার রাখা যায়। তাছাড়া যে এলাকা জনবহুল, পাশে চিকিৎসকের চেম্বার আছে এমন এলাকা বেছে নিয়ে ঔষধের দোকান পরিচালনা করা যায়। মনে রাখতে হবে, জীবন বাঁচাতে যেমন ঔষধ প্রয়োজন তেমনি ভুল ঔষধ মানুষের মৃত্যুও ডেকে আনে। তাই খুবই সতর্কতার সাথে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ঔষধ বিক্রি করা আবশ্যক। ঔষধের দোকানের বিক্রয় কর্মীদের স্বল্পকালীন প্রশিক্ষণ প্রদান করলে ভালো হয় ।

 

ঔষধের দোকান আত্ম-কর্মসংস্থান: শহরের প্রেক্ষাপট

 

মোবাইল সার্ভিসিং : দেশে সাত কোটিরও বেশি মানুষ কোনো না কোনো কোম্পানীর মোবাইল ফোন ব্যবহার করে। প্রতিনিয়তই কারো না কারো মোবাইল সেটে সমস্যা দেখা দিচ্ছে। জনবহুল কোন এলাকায় অথবা কয়েকটি রাস্তার সংযোগ স্থলে বা বাজারে মোবাইল সার্ভিসিং-এর দোকান দিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করা যায়। এ ক্ষেত্রে দক্ষতা একটি বিরাট বিষয়।

তাই সরকারি বা বেসরকারি কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে ছয়মাস মেয়াদী বা তিনমাস মেয়াদী স্বল্পকালীন প্রশিক্ষণ নিয়ে আত্ম- বিশ্বাস তৈরির মাধ্যমে আত্ম-কর্মসংস্থানের পথকে স্থায়ী কাজ হিসেবে নেওয়া যায়। তবে মনে রাখতে হবে এ ধরনের ব্যবসার জন্য ট্রেড লাইসেন্স জরুরী। পৌরসভা বা সিটি কর্পোরেশন থেকে ট্রেড লাইসেন্স সংগ্রহ করে ব্যবসার আয়ের উপর সঠিক কর প্রদান আমাদের সকলের উচিত।।

 

মোবাইল সার্ভিসিং আত্ম-কর্মসংস্থান: শহরের প্রেক্ষাপট

 

কেস স্টাডি: বাঁশখালীর ছেলে নুরুল আজিজ। চট্টগ্রাম শহরের একটি বই-খাতা, ফোন-ফ্যাক্স এর দোকানে বিক্রয়কর্মীর কাজ নিয়েছে। তিন-চার বছর কাজ করার পর নিজেই এ ধরনের দোকান খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বাবার সহযোগিতায় ও নিজের জমানো টাকায় একটি ফটোস্ট্যাট মেশিন ও কিছু খাতা-কলম, পেন্সিল এর ব্যবসা শুরু করেছে। তার প্রথম ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটির নাম সূচনা লাইব্রেরী। যেহেতু স্থানটি একটি কলেজের সামনে সেহেতু বিভিন্ন প্রকাশনা সংস্থার সাথে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় বই বিক্রিও শুরু করেছে। দেখতে দেখতে আজিজ একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী হয়েছে। মূল দোকানটির পাশাপাশি আরো দু’টি দোকান প্রতিষ্ঠা করেছে।

 

একটি খাবারের আর একটি কম্পিউটার কম্পোজ, প্রিন্ট, ইন্টারনেট ব্রাউজিং, মোবাইল রিচার্জ। এছাড়াও নিজের গ্রামের পুকুরে মাছ চাষ ও বাড়িতে মুরগীর খামার প্রতিষ্ঠা করেছে। এসব প্রতিষ্ঠানে পঁচিশ জন লোক কাজ করে। সে এখন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। সফলতার পেছনে তার সততা, কর্তব্যনিষ্ঠা ও শ্রম বেশি কাজ করেছে। এছাড়া সকলের সাথে ভালো আচরণও ব্যবসা প্রতিষ্ঠায় বিশেষ ভূমিকা রেখেছে। নিজে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠিত হওয়ার ফলে নিজের খালতো ভাই, মামাতো ভাই, ভাগিনাকেও ব্যবসায় আসার জন্য অনুপ্রেরণা সৃষ্টি করছে।

 

কেস স্টাডি আত্ম-কর্মসংস্থান: শহরের প্রেক্ষাপট

 

সারসংক্ষেপ

শহরে কর্মসংস্থানের জন্য ছোটখাটো অনেক সুযোগ আছে। প্রয়োজন কিছু লেখাপড়া, হাতে কলমে কাজ, সততা আন্তরিকতা ও নিষ্ঠা। শিক্ষার্থী বন্ধুরা, আপনারাও নুরুল আজিজের মত স্বাবলম্বী হতে পারেন যদি সদিচ্ছা ও একগ্রতা থাকে। শুরুটা ছোট থেকে হোক না; অসুবিধা কোথায়? বড় হওয়ার স্বপ্নটাতো আছেই।

Leave a Comment